শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৯:২৪ পিএম, ২০২৬-০৪-২৪
আবদুল্লাহ মজুমদার :
ডিজিটাল সময়ের এক বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন—Facebook-এ কেউ কিছু লিখলেই গণমাধ্যম কেন তা সঙ্গে সঙ্গে সত্য বলে মেনে নেয় না? কে তাদের এমন সংযত থাকতে বলেছে? বাস্তবতা হলো, গণমাধ্যমকে “অস্বীকার” করতে কেউ নির্দেশ দেয় না; বরং তাদের পেশাগত নীতি, তথ্য যাচাইয়ের কঠোর বাধ্যবাধকতা এবং আইনি দায়বদ্ধতাই এই সংযম তৈরি করে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কোনো তথ্য যত দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ুক না কেন, তা সংবাদ হয়ে ওঠার আগে যাচাইয়ের কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য—এটাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত।
আজ তথ্যের গতি অভূতপূর্ব। একটি পোস্ট, একটি ছবি, একটি ভিডিও কিংবা একটি লাইভ সম্প্রচার—মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় হাজারো, কখনো লক্ষ মানুষের কাছে। এই গতি যেমন তথ্যপ্রাপ্তিকে সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে বিভ্রান্তির ঝুঁকি। কারণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য সবসময় নির্ভুল হয় না; বরং অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাল হওয়াটাই হয়ে ওঠে তার একমাত্র পরিচয়। ফলে “ভাইরাল” এখন আর সত্যের সমার্থক নয়; বরং অনেক সময় তা সন্দেহের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশন করে না; তারা তথ্য যাচাই করে, প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করে এবং দায়িত্বের সঙ্গে তা উপস্থাপন করে। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যে ঘাটতিগুলো সাধারণত থাকে—সময়ের সুনির্দিষ্টতা, স্থানের নিশ্চিততা, প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ও নির্ভরযোগ্য উৎস—গণমাধ্যম সেই ঘাটতিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করে। ফলে একটি পোস্ট সরাসরি সংবাদে পরিণত না হওয়া কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং সেটিই পেশাগত সততা ও শক্তির পরিচায়ক।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—“যাচাই ছাড়া প্রকাশ নয়”—ডিজিটাল যুগে এসে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এখন গুজব ছড়ানোর মাধ্যম যেমন সহজলভ্য, তেমনি তার প্রভাবও বিস্তৃত ও দ্রুত। একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ কেবল তথ্যগত ত্রুটি নয়; এটি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, সামাজিক বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমনকি কখনো কখনো সামাজিক অস্থিরতার জন্মও দিতে পারে। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যমের প্রতিটি প্রকাশ হয়ে ওঠে একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশে এই পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ববোধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে Press Council Bangladesh। তাদের নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—অপ্রমাণিত, গুজবনির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্ট যতই আলোচিত বা ভাইরাল হোক না কেন, তা যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোনো বিধিনিষেধ নয়; বরং একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, যা সত্য ও অসত্যের মাঝে সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়।
তবে এটিও সত্য যে সামাজিক মাধ্যম এখন অনেক সময় বড় ঘটনার প্রাথমিক সূত্র হিসেবে কাজ করে। কোনো দুর্ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা জনদুর্ভোগের প্রথম চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই সামনে আসে সাধারণ মানুষের পোস্টের মাধ্যমে। গণমাধ্যম সেই তথ্যকে অবজ্ঞা করে না; বরং গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে, কিন্তু সরাসরি বিশ্বাস করে না। সেটিকে অনুসন্ধানের সূচনা হিসেবে ধরে নিয়ে তারা মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একটি তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদে রূপান্তরিত হয়।
ডিজিটাল এই বাস্তবতায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভূমিকাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি শেয়ার, একটি মন্তব্য কিংবা একটি ফরওয়ার্ড—সবকিছুই এখন তথ্যপ্রবাহের অংশ। ফলে যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো যেমন সহজ, তেমনি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করাও সম্ভব। তথ্যের এই যুগে প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে “মাধ্যম”—এটি অনুধাবণ করা জরুরি।
গণমাধ্যমের এই সংযম কোনো দুর্বলতা নয়, কোনো চাপের ফলও নয়; বরং এটি একটি সুসংহত পেশাগত অবস্থান। কারণ সত্য কখনো তাড়াহুড়ো করে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যাচাই, প্রমাণ এবং দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। আর সেই পথেই এগোতে চায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যম—যেখানে দ্রুততার চেয়ে নির্ভুলতাই বড়, আর ভাইরালতার চেয়ে সত্যই শেষ কথা।
লেখক: সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ১৯ দিনব্যাপী স্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার ফেব্রুয়ারি মানেই বই-এর মৌ মৌ ঘ্রাণ, গল্প-কবিতার সমাহারে মেলার ক্যানভাস। নয়ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সামিয়া হোসেন মুনিয়া : নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রধান ফটক দিয়ে প্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লেখক: মাহাবুব রহমান দুর্জয় : এক ক্লিকেই ভাঙছে সম্পর্কের নীরব বন্ধন : একটা সময় ছিল, সন্ধ্যা নামলেই ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেহেদী হাসান : ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ— এখানে প্রতিটি ঋতু আসে নিজস্ব রূপ, রস ও গন্ধ নিয়ে। ঠিক তেমনি নো...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চৌধুরী নওরাজ মাহমুদ সাদুল্লাহ, নোবিপ্রবিঃ আকাশ জুড়ে ছিল ভোরের নরম আলো। হঠাৎ করেই এক নতুন দিনের সূ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited